চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার প্রানবিন্দু রহনপুর। পূর্ণভবা ও মহানন্দা নদীর সঙ্গমস্থলে গড়ে ওঠা এই জনপদটি শুধুমাত্র এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে রহনপুর আজ পরিণত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে।
প্রাচীনত্বের ছাপ রহনপুরের আনাচে-কানাচে স্পষ্ট। সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক 'রহনপুর অক্টোবর গম্বুজ মসজিদ' কিংবা নওদা বুরুজ—সবই সাক্ষী দেয় এই ভূখণ্ডের সমৃদ্ধ ইতিহাসের। কথিত আছে, রহনপুর নামটি এসেছে ফারসি শব্দ 'রূহ' (আত্মা) এবং 'পুর' (নগর) থেকে, অর্থাৎ আত্মিক শান্তির স্থান। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির আদান-প্রদান এই এলাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।
রহনপুরের প্রধান পরিচিতি এর বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনায়। এখানকার রেলওয়ে জংশনটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। 'রহনপুর শুল্ক স্টেশন' দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, এই শুল্ক স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করা হলে দুই দেশের যাতায়াত ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অর্থনীতির পাশাপাশি রহনপুরের প্রাণ কৃষি। সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় জাতের আমের জন্য এই অঞ্চলের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। ফজলি, খীরসাপাত, আর ল্যাংড়ার মিষ্টি গন্ধে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে মেতে ওঠে রহনপুরের হাট-বাজার। শুধু আম নয়, ধান ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সবজি উৎপাদনেও রহনপুরের নাম সর্বাগ্রে।
নদী-ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মেহনতি মানুষের কোলাহলে মুখরিত রহনপুর আজ বদলে যাওয়ার পথে। ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং আধুনিক সম্ভাবনার হাত ধরে এই প্রাচীন জনপদ এগিয়ে চলেছে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে।
প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ
সূত্র: onenewsexpress.com

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার প্রানবিন্দু রহনপুর। পূর্ণভবা ও মহানন্দা নদীর সঙ্গমস্থলে গড়ে ওঠা এই জনপদটি শুধুমাত্র এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে রহনপুর আজ পরিণত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে।
প্রাচীনত্বের ছাপ রহনপুরের আনাচে-কানাচে স্পষ্ট। সুলতানি আমলের ঐতিহাসিক 'রহনপুর অক্টোবর গম্বুজ মসজিদ' কিংবা নওদা বুরুজ—সবই সাক্ষী দেয় এই ভূখণ্ডের সমৃদ্ধ ইতিহাসের। কথিত আছে, রহনপুর নামটি এসেছে ফারসি শব্দ 'রূহ' (আত্মা) এবং 'পুর' (নগর) থেকে, অর্থাৎ আত্মিক শান্তির স্থান। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির আদান-প্রদান এই এলাকাকে করেছে সমৃদ্ধ।
রহনপুরের প্রধান পরিচিতি এর বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনায়। এখানকার রেলওয়ে জংশনটি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। 'রহনপুর শুল্ক স্টেশন' দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, এই শুল্ক স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করা হলে দুই দেশের যাতায়াত ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অর্থনীতির পাশাপাশি রহনপুরের প্রাণ কৃষি। সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় জাতের আমের জন্য এই অঞ্চলের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। ফজলি, খীরসাপাত, আর ল্যাংড়ার মিষ্টি গন্ধে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে মেতে ওঠে রহনপুরের হাট-বাজার। শুধু আম নয়, ধান ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সবজি উৎপাদনেও রহনপুরের নাম সর্বাগ্রে।
নদী-ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মেহনতি মানুষের কোলাহলে মুখরিত রহনপুর আজ বদলে যাওয়ার পথে। ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং আধুনিক সম্ভাবনার হাত ধরে এই প্রাচীন জনপদ এগিয়ে চলেছে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে।
প্রকাশের তারিখ : শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ
সূত্র: onenewsexpress.com

আপনার মতামত লিখুন